মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি

 

জেলা প্রশাসনের পটভূমি

 

 

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করেন। এই দেওয়ানীকে প্রথম রাজস্ব প্রশাসন হিসেবে অভিহিত করা যায়। সে সময় ময়মনসিংহ জেলা ছিলো অখন্ড। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে মিঃ মিডেলটন স্বাধীনভাবে রাজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি সর্বোচ্চ জমিদারি ডাককারীদের অনুকুলে মহালগুলো লিজ দিয়ে ছিলেন। এদিকে লিজ প্রাপ্ত জমিদারগণ আবার সাব লিজ দিতে থাকলেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৭৭৬ থেকে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রাদেশিক কাউন্সিল কাজ করে।

১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে এইচ, বারোজের অধীনে ময়মনসিংহ জেলার জন্যে আলাদা একটি কালেক্টরেট সৃষ্টি করা হয়। তখন এ জেলার প্রশাসনিক কাজ নিয়ন্ত্রিত হতো ঢাকা থেকে। প্রশাসনিক বিন্যাস ছিলো পাঁচ বছর মেয়াদী। জন শোর' বোর্ড অব রেভিন্যুর রিপোর্ট অনুযায়ী লর্ড কর্ণওয়ালিশ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরের ক্ষমতা একত্রীকরণ এবং দেওয়ানী মামলার বিচারের ক্ষমতাও কালেক্টরের উপর ন্যস্ত করেন। মিঃ ডব্লিউ রটন কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক প্রয়োজনে ময়মনসিংহে নিম্নোক্ত মহকুমাসমূহ গঠিত হয়ঃ-

 

১৮৪৫ সনে জামালপুর

১৮৬৯ সনে টাংগাইল

১৮৬০ সনে কিশোরগঞ্জ

১৮৮২ সনে নেত্রকোনা

 

ঐতিহাসিক তথ্যঃ

১লা মে ১৭৮৭ সনে

ময়মনসিংহ জেলা গঠন

মিঃ এফ লি গ্রোস

প্রথম কালেক্টর

১৭৯১ সনে

জেলা সদরের পত্তন

১৮৬৯ সনে

পৌরসভা গঠন

১৭৮৭ সনে

সরকারী ডাকের প্রচলন

১৮৮৭ সনে

জেলা বোর্ড গঠন

১৭৯১ সনে

সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র চালু

১৮০০ সনে

নুতন মুদ্রা চালু হয়

১৮১৫ সনে

প্রথম মুদ্রিত পুস্তক প্রকাশিত হয়

১৮৪৬ সনে

ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্ঠা

১৮৫৩ সনে

জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা

১৮৬৪ সনে

অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট পদ প্রবর্তন

১৮৮০ সনে

মানি অর্ডার চালু

১৮৮১ সনে

প্রথম আদম শুমারী

১৮৮৩ সনে

টেলিগ্রাফ অফিস স্থাপন

১৮৮৬ সনে

ঢাকা ময়মনসিংহ রেলপথ চালু

১৮৮৯ সনে

সূর্য্য কান্ত লাইব্রেরী স্থাপন

১৮৯৩ সনে

রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস স্থাপন

১৮৯৯ সনে

ময়মনসিংহ জগন্নাথগঞ্জ রেলপথ চালু

১৮৬৫ সনে

লিটারেচার গজ গঠন

১৮৭৭ সনে

ময়মনসিংহ স্বারসত সমিতি গঠন

১৯০০ সনে

টাংগাইলে মন্নথ কলেজ স্থাপন

১৯০১ সনে

ময়মনসিংহ সিটি কলেজ ব্রাঞ্চ স্থাপন

 

 

 

ময়মনসিংহ জেলা আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড়। যুক্তিসঙ্গত কারণেই এ জেলাকে বিভাজনের প্রস্তাব করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। জেলাসমূহের পূর্নগঠনের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলকে আলাদা করা হয় ১৯৬১ সালে। তারপর জামালপুর মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে সকল মহকুমা জেলায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার ফলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার সকল মহকুমাই জেলায় উন্নীত হয়। এভাবে দেশের এককালের বৃহত্তম জেলা ছয় টুকরো হয়ে যায়।

 

 

 

জেলা প্রশাসনের প্রধান হলেন জেলা প্রশাসক। তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টরও। তাঁকে সহায়তা করার জন্যে রয়েছেন তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপ পরিচালক স্থানীয় সরকার, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, নেজারত ডেপুটি কালেক্টরসহ বেশ ক'জন সহকারী কমিশনার ও বিভিন্ন কর্মকর্তা। তিনি সাধারণ প্রশাসন, রাজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে বিচার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও তাঁর উপর ন্যস্ত।

 

জেলা প্রশাসনের অধঃস্তন প্রশাসন হচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এই প্রশাসনের প্রধান হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁকে সহায়তা করার জন্যে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ অন্য কর্মকর্তাগণ।